September 25, 2022, 1:24 am

চুরির স্মার্ট ফোন উদ্ধারের ঘটনায় তিন মাসেও চার্জশিট তৈরী করতে পারেনি পুলিশ

নওগাঁ থেকে চুরি হওয়া শতাধিক স্মার্ট ফোন বগুড়ার সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে উদ্ধারের প্রায় তিন মাসেও চার্জশীট তৈরী করতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ উঠেছে সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রত্যাহারকৃত পরিদর্শক, উপ-পরিদর্শকসহ ৭ জনসহ জড়িতদের চার্জশীট দিতে তালবানা করছে পুলিশ। দ্রুত এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্যামসাং ও ভিবো মোবাইল ফোন শোরুমের সত্ত্বাধিকারী মেহেদী হাসান বাবু।
নওগাঁর থেকে চোরাই ফোন কেনা-বেচার অভিযোগে ঢাকার টঙ্গী থেকে গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালি গ্রামের লিটন চৌধুরীর ছেলে কথিত ফোন ব্যবসায়ী শাকিল চৌধুরীকে ৬টি ফোনসহ ১১ আগস্ট গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে বাঁকি ২৭টি ফোন উদ্ধার উদ্ধার করতে করা সম্ভব হয়নি।
গত ২ জুলাই একাত্তর টেলিভিশনে “চুরির শতাধিক মোবাইল ফোন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে!” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। এর পরই দেশজুড়ে আলোড়ন শুরু হলে ওই দিন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন, অর্থ ও পরিকল্পনা) কাজী আবেদ হোসেনের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ তাদের ঢাকা কার্যালয়ে সান্তাহারের ওই ৭ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এরপর ৬ জুলাই আবারো একাত্তর টেলিভিশনে “চুরির শতাধিক মোবাইল ফোন মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে উদ্ধার! পরিদর্শক, উপ-পরিদর্শকসহ ৭ জনকে ঢাকায় ক্লোজ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়।
প্রত্যাহারকৃত (ক্লোজকৃত) হলেন, বগুড়ার (খ সার্কেল) সান্তাহার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের সার্কেল লুৎফর রহমানের পরিদর্শক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, উপ-পরিদর্শক শামীমা আক্তার, সহকারি উপ-পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সিপাহী মো. জুলফিকার রহমান, মো. সালাহ উদ্দিন, মো. জামিল আক্তার ও মো. শুভ হোসাইন।
জানা গেছে, নওগাঁ পুরাতন বাস স্টান্ড এলাকায় স্যামসাং ও ভিবো মোবাইল ফোন শোরুম থেকে গত ২৫ জুন (শনিবার) বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় কোটি টাকা মূল্যের ১৪০টি স্মার্ট মোবাইল ফোন চুরি হয়ে যায়। ঘটনায় পরদিন নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। চুরি যাওয়া মোবাইল উদ্ধারে তদন্তে মাঠে নামে নওগাঁ জেলা পুলিশ। এই সংবাদ ছড়িয়ে পরলে পরদিন ২৬ জুন (রবিবার) দুপূরে বগুড়ার আদমদিঘী উপজেলায় সান্তাহার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের একটি দল সান্তাহারের পোওতা রেলগেট এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধারের জন্যে বিভিন্ন যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় তিনটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৬ থেকে ৭ জনকে আটক করে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। তবে মোবাইল ফোন উদ্ধারের সময় আটককৃতদের কৌশলে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেন সান্তাহার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্তারা। এরপর মোবাইল ফোনগুলো নিয়ে যান সান্তাহার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর। এরপর ৫ দিনেও কোন আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে উদ্ধারকৃত মোবাইল আত্মসাতের জন্য মাদকদ্রব্য অফিসে রেখে দেয়া হয়। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নওগাঁ জেলা পুলিশের সদর সার্কেল ও সদর থানা ওসি নেতৃত্বে ১ জুলাই (শুক্রবার) মধ্যে রাতে সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে অভিযান পরিচালনা করে ১০৭ টি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করে নওগাঁ জেলা পুলিশ। তবে সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক লুৎফর রহমানসহ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
শোরুমের সত্ত্বাধিকারী মেহেদী হাসান বাবু জানান, জানতে পেরেছি সান্তাহার মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের কর্তারা ফোনগুলো উদ্ধারের সময় ৬/৭ জনকে আটক করে। এরপর আটককৃতদের কৌশলে পালিয়ে যাওয়া এবং আদমদিঘী থানায় ডায়ারি না করার পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য ছিলো অধিদপ্তরের কর্তাদের। পরে অধিদপ্তর থেকে পুলিশ ১০৭টি ফোন উদ্ধার করলেও অধিদপ্তরের কর্তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। পরবর্তীতে ঢাকার টঙ্গী থেকে ৬টি ফোনসহ একজনকে গ্রেপ্তার করলেও বাঁকি ফোনগুলো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। দ্রুত ফোনগুলো উদ্ধারসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাই।
মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও নওগাঁ সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রবিউল ইসলাম জানান, ফোনগুলো উদ্ধারের সময় সান্তাহার মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্তাগং কয়েকজনকে ছেড়ে দেয়া, অধিদপ্তরের কার্যালয় নিয়ে গিয়ে গোপনে রেখে দেয়া, থানায় জমা বা জিডি না করে ওয়াইফাই ইন্টারনেটের মাধ্যমে কয়েকটি ফোন তারা ব্যবহারও করেন। ঘটনাটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে ১ জুলাই (শুক্রবার) মধ্যে রাতে থেকে ১০৭টি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বিভিন্ন কারণে এর পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ফোনগুলো উদ্ধারের সময় আটককৃতরা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্তাগংদের জানিয়েছিলো তারা ভারত থেকে চোরাই পথে এনেছে। যেহুতু ভারত থেকে এনেছে অবৈধ্যভাবে এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া গেছে।
অপরপ্রশ্নে পুলিশের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি আরো বলেন, বাঁকি ফোনগুলো উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত চার্জশীট দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন


© All rights reserved © seradesh.com
Design, Developed & Hosted BY ALL IT BD